October 8, 2026, 7:46 am

বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও ভর্তুকিতে বরাদ্দ থাকছে ১৬৭২৭ কোটি টাকা

বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও ভর্তুকিতে বরাদ্দ থাকছে ১৬৭২৭ কোটি টাকা

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ থাকছে ১৬ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় করা হবে আমদানি ও অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ এবং ভর্তুকিতে।

চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে পৌনে তিনশ কোটি টাকা। সংগ্রহকৃত খাদ্যশস্যের বড় একটি অংশ বিতরণ করা হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পেছনে। খাদ্য সংগ্রহ, পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়সহ আগামী বাজেটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ থাকছে ১৯ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ৬৭৯ কোটি টাকা এবং পরিচালনা ব্যয় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সার্বিক বরাদ্দ বাড়লেও খাদ্য খাতে ভর্তুকি কমছে আগামী বাজেটে। ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ থাকছে ৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। চলতি বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। খাদ্য ভর্তুকি খাতে আগামী বাজেটে কমছে ৪০১ কোটি টাকা। সাধারণত সরকার বেশি মূল্যে খাদ্যশস্য কিনে দরিদ্র মানুষের মধ্যে স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। এতে যে লোকসান হয় সেটি ভর্তুকি হিসাবে গণনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী বছর ১০ টাকা মূল্যের খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে না। ফলে ভর্তুকি খাতে একটি বড় সাশ্রয় হচ্ছে। যে কারণে আগামীতে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ কমছে।

জানা গেছে, ৩ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট। প্রস্তাবিত এ বাজেটে আটটি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে স্বল্প ও বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ’ করা। এ জন্য খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

মূলত চলমান করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, এ মহামারি আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে। ফলে তাদের প্রয়োজন হবে ত্রাণ ও স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য। সেদিক বিবেচনা করে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচি দরিদ্রদের সহায়তার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, দেশের খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং সে লক্ষ্যে আমদানি ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরেও প্রায় ৩৩ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে চাল সংগ্রহ করা হবে প্রায় ২৬ লাখ টন এবং বাকি ৭ লাখ টন গম। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টন খাদ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ওএমএস কর্মসূচি বড় ভূমিকা রাখে। এ জন্য আগামী বছর মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ১৫ লাখ টন খাদশস্য খোলা বাজারে ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে বিক্রয় করা হবে। এছাড়া খাদ্য বিতরণ করা হবে কাবিখা (ত্রাণ), কাবিখা (ভূমি), কাবিখা (আশ্রয়ণ প্রকল্প), ভিজিএফ (ত্রাণ) ভিজিএফ (মৎস্য), ভিজিডি, জিআর, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও স্কুল ফিডিং ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমেও।

জানা গেছে, খাদ্যশস্য সংগ্রহের একটি অংশ আনা হবে বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানি খাতে ৩০২ কোটি টাকা সংস্থান রাখা হয়েছে। এ ঋণ পরিশোধ করা হবে। ফলে এটি ব্যয় ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার খাদ্যশস্য আমদানি করা হবে নিজস্ব অর্থায়নে। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে সেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ থাকছে ৬৭৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ৫৯৫ কোটি টাকা। আগামী বছরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে আধুনিক খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগারে ব্যয় করা হবে ৩৮৯ কোটি ৮৫ হাজার টাকা।

এছাড়া সারা দেশের পুরনো গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ব্যয় ধরা হয় ১৯০ কোটি টাকা। এছাড়া খাদ্যশস্য পৃুষ্টিমান নিশ্চিত করতে ঘন্টায় ৪০০ কেজি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রিমিক্স কার্নেল মেশিন ও ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এক্ষেত্রে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আরও জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবারত দরিদ্র, অনগ্রসর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং দুর্যোগ প্রবণ এলাকার জনগোষ্ঠীর নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের জন্য সরবরাহ করা হবে হাউজ হোল্ড সাইলো। এক্ষেত্রে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

বিজনেস নিউজ/এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com